ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের ৩২তম দিনে এসে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে থাকা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) স্পষ্ট জানিয়েছে, আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা কোনোভাবেই সরে আসবে না।
ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে দুই মাস আগে আত্মপ্রকাশ করা সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে বলেন, সরকার যদি সত্যিই আলোচনা করতে চায়, তবে তাদেরই এগিয়ে আসতে হবে এবং আন্দোলনকারীদের শর্ত মেনেই তা করতে হবে। তিনি সরকারের অহংকারের অবসান ঘটিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানান।
এদিকে সরকারি সূত্র থেকে আলোচনার আগ্রহের কথা জানানো হলেও সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, নিরপেক্ষ কোনো স্থানে বা যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে, তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তারা ছাড়বেন না। এর আগে সোমবার বিজেপির সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে সিজেপির দুই প্রতিনিধির বৈঠক হয়, যেখানে নাড্ডা দাবিগুলো সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
আন্দোলনের ৩২তম দিনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্যে অভিজিৎ দিপকে সরকারের বিরুদ্ধে আলোচনার নামে কালক্ষেপণের অভিযোগ আনেন। তিনি দাবি করেন, সরকার একদিকে আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অভিযান চালাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সিজেপির প্রতিনিধিদলকে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছিল এবং আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে জেপি নাড্ডার বাসভবনে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল।
একই দিনে সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই সহিংসতার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।