গত মাসে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পের রেশ কাটেনি এখনো। দেশটিতে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৮শ’র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে শত শত ভবন ধসে পড়ার মতো বিপর্যয় ঘটলেও, লা গুয়াইরা শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত আনারে নামে একটি ছোট উপকূলীয় শহর অলৌকিকভাবে এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে।
প্রায় ৪ হাজার মানুষের এই শান্ত জনপদে পৌঁছাতে হলে কারাকাসের উত্তরের উপকূলজুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া অসংখ্য ভবনের পাশ দিয়ে যেতে হয়। বাসিন্দারা ভূমিকম্পের তীব্র কম্পন অনুভব করলেও পাহাড়ের ঢালে নির্মিত তাদের বাড়িঘর অক্ষত রয়ে গেছে। ১৮ বছর বয়সী স্থানীয় সার্ফিং প্রশিক্ষক ও জেলে ড্যানিয়েল লোসাদা জানান, তাদের শহরটি এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং তারা আশা হারাননি।
আনারে সৈকতের শান্ত দৃশ্যের সঙ্গে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে থাকা লা গুয়াইরা শহরের বাস্তবতার আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। লা গুয়াইরায় উদ্ধারকর্মী ও স্বজনরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, ভূমিকম্পে সর্বস্ব হারানো হাজারো পরিবার নিকটবর্তী অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। আনারে এখন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় পর্যটন শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আনারে সৈকতের কাছে একটি কিয়স্কের দেয়ালে ‘স্বাগতম’ লেখা থাকলেও পর্যটকদের আগমন কমে যাওয়ায় স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন। অবসরপ্রাপ্ত হেনরি রোমেরো জানান, তিনি একটি অতিথিশালা পরিচালনা করতেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত। তবে ৪০ বছর বয়সী জেলে হোসে ইজাগুইরে মনে করেন, আনারে একটি আশীর্বাদপুষ্ট জনপদ। তিনি বলেন, বহু দুর্যোগ এলেও এই শহরটি সবসময়ই অক্ষত থেকেছে এবং তারা এই জায়গা ছেড়ে কোথাও যাবেন না।
গত ২৪ জুন আঘাত হানা ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৮শ’ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে শত শত ভবন ধসে পড়েছে। তবে লা গুয়াইরা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ছোট্ট শহর ‘আনারে’ ভূমিকম্পে কোনো ক্ষতির মুখে পড়েনি।
সেখানে উদ্ধারকর্মী ও স্বজনরা কয়েক সপ্তাহ ধরে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ১৯৯৯ সালের প্রাণঘাতী ভূমিধসের সময়ের মতো এবারও আনারে অনেক ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে।