রাজধানীর তোপখানা রোডের বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশে এআই-সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান’ শীর্ষক একটি নতুন গবেষণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের নেতৃত্বে এই প্রকল্পটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) এবং স্পৃহা ফাউন্ডেশন। গবেষণার পুরো ব্যয়ভার বহন করছে স্পৃহা ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিকায়নের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তার অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি সরকার, একাডেমিয়া এবং এনজিওর সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি আদর্শ উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ড. মো. এনামুল হক। তিনি জানান, এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করার কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিচালনাগত সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করা। এর মাধ্যমে প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে।
আইইউবিএটি-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুর রব বিশেষ অতিথি হিসেবে বলেন, প্রযুক্তির যুগে এআই-কে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নতুন প্রজন্ম এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। তিনি আরও জানান, আইইউবিএটি-এর জনস্বাস্থ্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এই প্রকল্পের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
স্পৃহা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মাইকেল চালভে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মূলত মানবকেন্দ্রিক। এআই মানুষকে আরও উন্নত তথ্য ও সময় প্রদানের মাধ্যমে সেবার পরিধি বাড়াতে সহায়তা করবে। প্রকল্পের টিম লিডার অধ্যাপক এস. কে. নাজমুল হুদা গবেষণার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন এবং ড. ইশতিয়াক জাহিদ ও তাহসিন ইফনুর সাঈদ কারিগরি বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও প্রযুক্তিবিদরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশে এআই বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ, সুরক্ষা ও ভবিষ্যতের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। এই গবেষণার ফলাফল ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যখাতে কৌশলগত বিনিয়োগ ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।