বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ফুটবল যে শেষ বাঁশি পর্যন্ত অনিশ্চয়তার খেলা, তা আবারও প্রমাণিত হলো আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে। ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা প্রমাণ করল, শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা এখন ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা বলের দখল বেশি রাখলেও ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডের শক্ত প্রেসিংয়ে মেসিদের ছন্দ পেতে বেগ পেতে হয়েছে। ডেকলান রাইস ও জুড বেলিংহামের কারণে মাঝমাঠে জায়গা সংকীর্ণ হওয়ায় মেসিকে বারবার নিচে নেমে বল সংগ্রহ করতে হয়েছে। ইংল্যান্ডের গোলটি আসে দ্রুত ট্রানজিশন ও উইং ব্যবহারের মাধ্যমে। গোল পাওয়ার পর ইংল্যান্ড রক্ষণাত্মক হয়ে পড়লে লিওনেল স্কালোনি তার দলের কাঠামো বদলে ফেলেন। ফুল-ব্যাকদের ওপরে তোলা এবং মিডফিল্ডকে সামনে আনার মাধ্যমে তিনি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।
ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভাঙতে আর্জেন্টিনা দূরপাল্লার শটের আশ্রয় নেয়। এক পর্যায়ে মেসির নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে এনজো ফার্নান্দেজ দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান। এরপর মেসির অসাধারণ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় লাওতারো মার্তিনেজ জয়সূচক গোলটি করেন। মেসির এই দুটি আক্রমণ শুধু গোলই আনেনি, পুরো ইংল্যান্ড রক্ষণভাগকে মানসিকভাবে অস্থির করে তুলেছিল। বয়স বাড়লেও মেসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনো তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে টিকিয়ে রেখেছে।
২০১৮ সালের পর আবারও সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো ইংল্যান্ডকে। টমাস টুখেলের পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও দলটি গোলের পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে বলের দখল ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছিল। আধুনিক ফুটবলে শুধু রক্ষণ দিয়ে বড় দলকে আটকানো যে কঠিন, তা এদিন আবারও প্রমাণিত হলো। স্কালোনির আর্জেন্টিনা দেখাল, শিরোপা জয়ের পথে প্রতিভা ছাড়াও বিশ্বাস, ধৈর্য এবং সঠিক সময়ের সিদ্ধান্তই আসল অস্ত্র।