ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করার আনন্দ উদযাপনের মাঝেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনাল ম্যাচ শেষে মাঠে ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় দেশটির ফুটবল দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। দক্ষিণ-পশ্চিম আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে যুক্তরাজ্যের একটি স্বশাসিত বিদেশি অঞ্চল হলেও এর সার্বভৌমত্ব নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এই দ্বীপপুঞ্জটি ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। বুধবারের ম্যাচে ২-১ গোলে জয়ের পর খেলোয়াড়রা যে ব্যানারটি প্রদর্শন করেন, তার অর্থ হলো ‘ফকল্যান্ড (মালভিনাস) আর্জেন্টিনার’।
এই ঘটনায় আর্জেন্টিনার ফুটবল দলের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস। স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমরা সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। তবে এর সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিট ফিফার এই তদন্তের সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেছেন, বিশ্বকাপ আমাদের না হলেও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের এবং দ্বীপপুঞ্জের প্রতি ব্রিটেনের অঙ্গীকার কখনো পরিবর্তন হবে না। খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ফিফার এখতিয়ারভুক্ত হলেও তারা তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকারও এ ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, খেলাধুলায় রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয় এবং ফিফার নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, তারা চায় না ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার ম্যাচে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ও এখানকার জনগণকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করা হোক। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ফকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গণভোটে ১ হাজার ৫১৭টি ভোটের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই যুক্তরাজ্যের বিদেশি অঞ্চল হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছিলেন।
এর আগে আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিলাররুয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না। মালভিনাস আর্জেন্টিনার। এছাড়া মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচ জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ফকল্যান্ড, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছিল।
এর আগে মিশরের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা ফকল্যান্ড, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে স্লোগান দেন।