২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতির কারণে এই ম্যাচটিকে ‘ন্যাশনাল স্পেশাল সিকিউরিটি ইভেন্ট’ (এনএসএসই) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ৮২ হাজার ৫০০ জন দর্শকের প্রত্যেককে বিমানবন্দরের আদলে কঠোর নিরাপত্তা তল্লাশির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে ঢোকার আগে প্রত্যেক দর্শককে ব্যক্তিগতভাবে দেহ ও ব্যাগ তল্লাশির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিটি দর্শককে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তল্লাশি করা হচ্ছে এবং দিনটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। এই কঠোর নিরাপত্তার কারণে নির্ধারিত সময়ে সব দর্শক স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ব্যাপক শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ম্যাচ শুরুর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আগে থেকেই স্টেডিয়ামের আকাশসীমায় হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে এবং হাজারো সিক্রেট সার্ভিস সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। সকাল ৮টা থেকেই ম্যাচ পরিচালনা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সংবাদকর্মীদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সকাল ৯টায় গেট খোলার সময় অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছে যায়। সবাইকে একটি মাত্র প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকানো হচ্ছে, যেখানে অ্যাক্রেডিটেশন যাচাইয়ের পর বিমানবন্দরের মতো স্ক্যানার পার হয়ে দেহ তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে রেহাই পাননি জার্মানির সাবেক কোচ জুলিয়ান নাগেলম্যানও। ম্যাজেন্টার বিশ্লেষক হিসেবে ফাইনাল কভার করতে আসা নাগেলম্যানকেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এদিকে, হাজার হাজার ডলার খরচ করে টিকিট কেনা অনেক দর্শকই তখনো স্টেডিয়ামে পৌঁছাতে পারেননি। শনিবারও কিছু টিকিট ৩৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রির তালিকায় ছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ম্যাচ শুরুর প্রায় এক ঘণ্টা আগে তার ‘মেরিন ওয়ান’ হেলিকপ্টারে স্টেডিয়ামে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ফাইনাল ম্যাচ শেষে বিজয়ী দলের হাতে ট্রফি তুলে দেবেন তিনি। তার এই উপস্থিতির কারণে ফিফার জন্য আয়োজনের জটিলতা আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।