প্রায় ছয় সপ্তাহব্যাপী ১০৪টি ম্যাচের উত্তেজনাকর লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এই আসরে যেমন নতুন ইতিহাসের জন্ম হয়েছে, তেমনি ভেঙেছে অনেক পুরনো রেকর্ড। টুর্নামেন্ট শেষে বিবিসি স্পোর্টসের সাংবাদিকরা সেরা খেলোয়াড়, উদীয়মান তারকা, স্মরণীয় মুহূর্ত, সেরা গোল ও সেভ এবং সমর্থকদের নিয়ে একটি বিশেষ পর্যালোচনা তুলে ধরেছেন।
টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি। সিলভার বল পেয়েছেন লিওনেল মেসি এবং ব্রোঞ্জ বল জিতেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে বিবিসির বিশ্লেষকদের মতে, ৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স ছিল অনবদ্য। আট ম্যাচে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স তার খেলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। ব্যক্তিগত পছন্দে অনেক সাংবাদিক জুড বেলিংহাম, মাইকেল অলিসে কিংবা রদ্রিকেও সেরা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সেরা উদীয়মান ফুটবলার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পাও কুবারসি। পুরো টুর্নামেন্টে রক্ষণভাগে অসাধারণ নেতৃত্ব দেওয়া কুবারসির দল মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এছাড়া সাংবাদিকদের তালিকায় মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি, নরওয়ের আর্লিং হলান্ড, কেপ ভার্দের ভোজিনহা, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালেক্স ফ্রিম্যান, সুইজারল্যান্ডের ইয়োহান মানজাম্বি এবং মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরাসের নামও উঠে এসেছে।
স্মরণীয় মুহূর্তের তালিকায় স্থান পেয়েছে মেক্সিকো-ইংল্যান্ড ম্যাচের পরিবেশ, জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের জয়, কেপ ভার্দের সিডনি কাবরালের গোল এবং মেসির হ্যাটট্রিক। তবে হতাশার তালিকায় ছিল ব্রাজিল দলের ধীরগতির ফুটবল, সেনেগাল ও পর্তুগালের ব্যর্থতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের হতাশাজনক পারফরম্যান্স। এছাড়া মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও নরওয়ে ছিল আলোচনার শীর্ষে। এছাড়া ব্রাজিলের বিপক্ষে লিওনেল মেসির ফিনিশিংকে টুর্নামেন্টের সেরা গোল হিসেবে বেছে নিয়েছেন ফিল ম্যাকনাল্টি। সেরা গোলের তালিকায় আরও রয়েছে সিডনি কাবরাল, কেরিম আলাজবেগোভিচ, আর্লিং হলান্ড, হুলিয়ান আলভারেজ ও আন্তোনিও নুসার গোল। গোলরক্ষকদের মধ্যে জনি প্লাসিদ, জর্ডান পিকফোর্ড, অরইয়ান নিয়ল্যান্ড, আয়মান দাহমেন, প্যাট্রিক বিচ এবং আলিরেজা বেইরানভান্দ তাদের দুর্দান্ত সেভের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন।