লিওনেল মেসির নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল কাতারের মাঠে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির হাতে ট্রফিটা বেশ মানিয়েছিল। ফুটবল বিশ্ব তাকিয়ে ছিল মেসির এক উজ্জ্বল বিদায়ের অপেক্ষায়, যেখানে বিশ্বকাপ ট্রফিটি তার হাতেই উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা ছিল অনেকের। কিন্তু লামিন ইয়ামালের নেতৃত্বাধীন স্পেনীয় বাহিনী সব পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
ম্যাচের ১০০ মিনিট পর্যন্ত মেসি ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। পুরো আর্জেন্টিনা দল স্পেনের অনবদ্য আক্রমণের মুখে কেবল রক্ষণভাগ সামলাতেই ব্যস্ত ছিল, পাল্টা আক্রমণের সুযোগ খুব একটা তৈরি করতে পারেনি। ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেডে আসা বল থেকে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনের মতো সুসংগঠিত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই করা আর্জেন্টিনার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়ে।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শকের সামনে গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ দুর্দান্ত কিছু সেভ করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। ম্যাচ শেষে ক্যামেরার সামনে মেসির চোখের জল ছিল এক করুণ দৃশ্যের সাক্ষী। গোল্ডেন বুটও তার অধরা রয়ে গেছে; ৮ গোল করেও তিনি ফরাসি তারকা এমবাপ্পের ১০ গোলের কাছে পরাজিত হন।
স্পেন এবার টুর্নামেন্টের শুরুটা ধীরগতিতে করলেও ধীরে ধীরে নিজেদের সেরা ছন্দে ফিরে আসে। ২৩ বারের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এ নিয়ে ইউরোপের ছয়টি দেশ শিরোপা জিতল। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো তিনবার জয়ী হলেও এশিয়া বা আফ্রিকা থেকে এখন পর্যন্ত কোনো চ্যাম্পিয়ন আসেনি। মেসি বার্সেলোনা ছাড়ার সময় যেমন আবেগপ্রবণ হয়ে কেঁদেছিলেন, আজও তেমনই এক বিষাদময় বিদায় তাকে স্পর্শ করল। তবে মাঠের খেলায় উত্তেজনা আর লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে থাকা এই ফাইনালটি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় মেসিকে তার অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
'৮৬ বিশ্বকাপ জিতে ম্যারাডোনা ইতিহাসের নায়ক হয়েছিলেন।
উল্লেখ্য যে , ব্রাজিল ৫ বার, জার্মানি ৪ বার, ইতালি ৪ বার, আর্জেন্টিনা ৩ বার, ফ্রান্স ২ বার, উরুগুয়ে ২ বার আর স্পেন ২ বার।