অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াই শেষে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ট্রফি জিতল স্পেন। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত এই ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। তবে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করে দলকে শিরোপা এনে দেন। গোলটির নেপথ্যে ছিল পেদ্রো পোরোর ডান প্রান্ত থেকে বাড়ানো বল, যা নিকো উইলিয়ামসের হেডের মাধ্যমে তোরেসের কাছে পৌঁছায় এবং তিনি শক্তিশালী শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণের ধারায় স্পেন আধিপত্য বজায় রেখেছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দীর্ঘ সময় স্পেনের আক্রমণগুলো ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় যখন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনসো ফার্নান্দেস পাউ কুবারসিকে বেপরোয়া ট্যাকল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের শেষ সময়টুকু ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে।
পুরো ম্যাচে আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। এমনকি অতিরিক্ত সময়ের ১১৭তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া শট স্পেনের রক্ষণভাগ আটকে দিলে তা ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম লক্ষ্যে থাকা শট। অন্যদিকে, একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে দীর্ঘ সময় গোলের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে স্পেনকে।
উল্লেখ্য, এটি স্পেনের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। এর আগে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সিংহাসনে বসলো ইউরোপের এই দলটি। এবারের বিশ্বকাপটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে ৪৮টি দল মোট ১০৪টি ম্যাচ খেলেছে। ফাইনালের আগ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে মোট ৩০৭টি গোল হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন রেকর্ড।