আজ রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই হাইভোল্টেজ ফাইনাল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। দুই দলের মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা আক্রমণভাগে কিছুটা ধারালো হলেও রক্ষণভাগে স্পেন প্রায় অপ্রতিরোধ্য।
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সাত ম্যাচে মোট ১৯টি গোল করেছে, যা টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। তারা ১১৩টি শট নিয়ে ৪৬টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছে, যেখানে তাদের গোলে রূপান্তরের হার ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে, স্পেন সাত ম্যাচে ১৩টি গোল করেছে এবং ১২০টি শটের মধ্যে ৪২টি ছিল লক্ষ্যে, যার রূপান্তরের হার ১১ শতাংশ। পাসিংয়ের ক্ষেত্রে দুই দলই সমান কার্যকর; আর্জেন্টিনা ৯১ শতাংশ সফল পাসিং রেট বজায় রেখেছে, আর স্পেনও একই হার ধরে রেখেছে। তবে বলের দখলে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ গড় নিয়ে স্প্যানিশরা কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
রক্ষণভাগের পরিসংখ্যানে স্পেনের আধিপত্য স্পষ্ট। পুরো টুর্নামেন্টে তারা মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং ছয়টি ম্যাচে ক্লিন শিট রেখে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিপরীতে, আর্জেন্টিনা সাতটি গোল হজম করলেও দুটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোল করতে দেয়নি। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও দুই দলের তারকারা দারুণ ছন্দে রয়েছেন। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করেছেন। এছাড়া এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, হুলিয়ান আলভারেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ ৫ গোল করেছেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। এছাড়া রদ্রি বিশ্বকাপে এক আসরে সর্বাধিক সফল পাসের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এবং লামিন ইয়ামাল টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ৩০টি সফল ড্রিবল করেছেন। স্পেনের রক্ষণভাগে পাউ কুবারসি, আইমেরিক লাপোর্তে এবং গোলরক্ষক উনাই সিমনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দলটিকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সব মিলিয়ে, আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনার ধার এবং রক্ষণ ও বলের দখলে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব—এই দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছেন ফুটবল বিশ্ব।