নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরেছে বলে আস্থা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন এখন ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি সহযোগিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। সম্প্রতি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার রূপরেখা তুলে ধরেন।
বৈঠকে প্রযুক্তি খাতকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন দিগন্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানালে সার্জিও গর বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ উদ্যোগ ‘প্যাক্স সিলিকা’-এর অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের জন্য। এই উদ্যোগের লক্ষ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সরবরাহ চেইন সুরক্ষিত করা। এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকেও দুই দেশের যৌথ কাজের জন্য একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫টি শীর্ষ শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জনের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করবে। সার্জিও গর এই সফরকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এই প্রতিনিধিদল নীতিনির্ধারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাব্য খাত এবং বাণিজ্য সমপ্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ অবকাঠামোতেও মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। সয়াবিন, তুলা ও গমের মতো পণ্যের ওয়্যারহাউজ নির্মাণে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) সহযোগিতায় বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়েও নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে।
সার্জিও গর জানান, বাংলাদেশ সম্পর্কিত ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করার সিদ্ধান্তটি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। কক্সবাজারের শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সার্জিও গর বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উভয় পক্ষ সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বৈঠকের পর সার্জিও গর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার বড় সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার তিনদিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দুপুর ৩টার দিকে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদি আমিন, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।