চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর ভবনে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত ১টার দিকে রুনা টাওয়ার নামক ১১তলা ভবনটির মূল ফটকে দুর্বৃত্তরা এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভবনটির মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ, যার দুই সন্তান প্রবাসী এবং গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়িতে। ভবন মালিকের সাথে থাকা তথ্যমতে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর। আজিজ গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দুইদিন পর গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ভবন মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে তার ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ভয়েস মেসেজ আসে। বার্তায় হুমকি দিয়ে বলা হয়, তাদের পরিবারের সদস্যদের চলাফেরা, জীবনবৃত্তান্ত এবং বাড়ির অবস্থান সম্পর্কে তারা অবগত। এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১১টার দিকে দুই যুবক এসে ভবনের গেটে দুই রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে প্যান্ট-শার্ট পরা দুই যুবক তাকে গেটের ভেতরে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করতে বলে। এরপর তারা গেট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে হেঁটে চলে যায়। পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাঁদা না পাওয়ার কারণেই এই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৩ই জুলাই দক্ষিণ পাহাড়তলীর বড় দীঘিরপাড়ে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এছাড়া ১৩ই জুন বাকলিয়া এক্সেস রোডে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠান ডিডিএনকে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে ইমনের লোকজনের বিরুদ্ধে। ৫ই আগস্টের পর ইমন বেপরোয়া হয়ে উঠলে গত ২৯শে জুলাই তাকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি ১০ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।