দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার রাজধানীতেও এক থেকে দুই ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা ভাবছে। এছাড়া ঢাকার বাইরে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে নাশকতার আশঙ্কায় সব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার শিল্প খাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে শিল্প খাতে দৈনিক ২০ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে। এর ফলে সারা দেশে প্রায় ৩ থেকে ৪ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তিতাস গ্যাস বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ জানিয়েছেন, শিল্পকারখানাগুলো গ্যাস না পাওয়ার প্রচুর অভিযোগ করছে। তবে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতের মধ্যে সমন্বয় করতে হচ্ছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বুধবার জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে স্পষ্ট করেছেন যে, বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে এরপর অন্যান্য খাতে গ্যাস দেওয়া হবে। তিনি জ্বালানি খাতের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারের কাজে বাধা সৃষ্টি ও নাশকতার অভিযোগও তুলেছেন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি উন্নতির জন্য কাজ করছে এবং দ্রুতই অবস্থার পরিবর্তন হবে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সৈয়দপুর ও খুলনার ডিজেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালু করা হয়েছে এবং ৭০০ মেগাওয়াটের মেঘনাঘাট কেন্দ্রটিও উৎপাদনে ফিরেছে। তবে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে চাঁদপুর ও সিলেটের একটি করে ইউনিট বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ, পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লায় পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ময়মনসিংহ-১ সমিতির মহাব্যবস্থাপক জোনাব আলী জানিয়েছেন, তাদের এলাকায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ ৭০ কোটি ঘনফুট থেকে বাড়িয়ে ৯০ কোটি ঘনফুট করার লক্ষ্য থাকলেও বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এর অন্যতম কারণ সৌদি আরামকোর এলএনজিবাহী কার্গো সামিটের ভাসমান টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত করতে না পারা এবং এক্সিলারেট এনার্জির সরবরাহ সীমিত থাকা। বুধবার জাতীয় গ্রিডে ৪৮ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সব বিদ্যুৎকেন্দ্র সচল রাখার সর্বোচ্চ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।