সিলেট নগরের রায়নগরে গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে একই বাসার তিনজনকে একাই হত্যা করেছে রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়া। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ বাবুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে একাই এই তিনজনকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনার বিষয়ে সন্ধ্যায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনার জানান, নিহত গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের সঙ্গে বাবুল মিয়ার আগে থেকেই পরিচয় ছিল। কাজের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় ওই বাসায় যাতায়াত করত। একপর্যায়ে ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন সকালে বাবুল ওই বাসায় গেলে তাহমিনা নিজেই দরজা খুলে দেয়। এরপর বাবুল তাহমিনার রুমে গিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বাবুল ধারালো চাকু দিয়ে তাহমিনাকে খুন করে।
তাহমিনার চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম। তখন বাবুল তাকেও চাকু দিয়ে খুন করে। সবশেষে ঘরে থাকা গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও হত্যা করে সে। সিসিটিভি ফুটেজেও দেখা গেছে, গৃহকর্মীর চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে যাচ্ছেন এবং এরপর তাঁরও চিৎকার শোনা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনকে খুনের পর বাবুল বাসার বেলকনি দিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় পাশের ফ্ল্যাটের একটি স্থানে সে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি ফেলে দেয়।
গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়া রায়নগর এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া। পেশায় সে একজন রংমিস্ত্রি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।