সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডারের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উন্মোচন করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের পর ওই দিন সন্ধ্যায় ঘটনার মূল হোতা বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক রঙমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং তাদের ১৫ বছর বয়সী গৃহকর্মী তাহমিনা। পুলিশ বুধবার সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে এই তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। প্রতিবেশীরা সকালে দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে পুলিশে খবর দিলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।
বুধবার সন্ধ্যায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেফতার হওয়া বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে রঙের কাজ করার সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে বাবুল ওই বাসায় প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাহমিনার সঙ্গে কথাকাটাকাটি হলে তিনি তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় তাহমিনাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগমকেও আঘাত করা হয়। সবশেষে বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বাবুল।
পুলিশ জানিয়েছে, বাসাটির একটি কক্ষ থেকে সুরাইয়া ও তাহমিনার এবং অন্য একটি কক্ষ থেকে আব্দুস সাত্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই বাসায় দুজন গৃহকর্মী কাজ করতেন, যার মধ্যে তাহমিনার মরদেহ পাওয়া গেলেও অপর গৃহকর্মীর সন্ধান এখনও মেলেনি। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মইনুল জাকির জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে আঘাত করা হয়েছে এবং তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।