সৌদি আরামকোর পাঠানো একটি এলএনজিবাহী কার্গোকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি কার্গোটিকে ‘পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি খালাসে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। যদিও সরকার বৈরী আবহাওয়ার কথা বলছে, তবে মূলত এই কার্গো বিতর্কের কারণেই গত তিন দিন ধরে জাহাজটি বহির্নোঙরে ভাসছে।
এই অচলাবস্থার ফলে দেশে গ্যাস সরবরাহে ধস নেমেছে। বর্তমানে সরবরাহ দৈনিক ১৮৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন এবং বাসাবাড়িতে গ্যাসের তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বুধবার এক্সিলারেট এনার্জির উপদেষ্টা ও সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করে খালাসের অনুরোধ জানালেও, নিরাপত্তার অজুহাতে এক্সিলারেট তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, আরামকোর এই কার্গো সামিটের টার্মিনালের জন্য উপযুক্ত নয়।
পেট্রোবাংলা ও জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিটল এশিয়ার একটি এলএনজিবাহী কার্গো আসার কথা রয়েছে। সেটি খালাস করার পর এক্সিলারেটের টার্মিনাল রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২ থেকে ৩ দিন বন্ধ রাখা হতে পারে, যার ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। গত ২১ জুলাই টার্মিনালে আগুনের ঘটনার পর থেকেই সরবরাহ ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছিল, যা কার্গো বিতর্কে এখন তলানিতে ঠেকেছে।
১১ আগস্ট ‘আল হামরা’ নামের এই কার্গোটি বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাতারবাড়ীতে বাতাসের যে গতি রয়েছে তাতে অন্য জাহাজ কাজ করতে পারলেও, এক্সিলারেট এই কার্গোটির ক্ষেত্রে সবুজ সংকেত দিচ্ছে না। এক্সিলারেট ও সামিটের কর্মকর্তাদের মতে, তারা জাহাজটি যাচাই করে দেখেছে এটি পুরোনো মডেলের এবং তাদের টার্মিনালের জন্য প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, আরপিজিসিএল-এর কর্মকর্তাদের দাবি, ২০২১ সালে একই টাইপের ‘মারায়েহ’ কার্গো থেকে এক্সিলারেট নিজেই এলএনজি খালাস করেছিল।
বর্তমানে সরকার এক্সিলারেটকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদি তারা অনুমতি না দেয়, তবে বিটল এশিয়ার কার্গোটি আসার পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশে গ্যাস সরবরাহ একেবারেই নাজুক। ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুনের ঘটনার পর এই বিপর্যয় দেখা দেয়। সরবরাহ দৈনিক ২৬৫ কোটি থেকে কমে ২১০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে ওই সময়। ৫ আগস্ট এক্সিলারেট এনার্জির আংশিক চালু হলে সরবাহ কিছুটা বেড়ে ২৩৫ কোটি ঘনফুটে দাঁড়ায়। কিন্তু এখন কার্গো বিতর্কের কারণে সেই সরবরাহ একেবার
বাংলাদেশ সাধারণত মেমব্রেইনে করেই এলএনজি আমদানি করে। কিন্তু এবার করল মস টাইপে। ১১ আগস্ট মধ্যরাতে আল হামরা নামে এই কার্গো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে। বলা হয়, তখন সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের গতি ১৫ থেকে ২০ মিটার থাকলে কার্গোগুলো টার্মিনালের সঙ্গে সহজে সংযুক্ত হয়ে যায়। জ্বালানি খাতের