ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনকে নিজেদের পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি এই আহ্বান জানান।
কাজেম গরিবাবাদি স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নির্দেশেই খোলা বা বন্ধ হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ না পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছে এবং অলীক কল্পনায় বিভোর থাকা বন্ধ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইরান তাদের ওপর অবরোধ বলবৎ রাখবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল একটি টুইট, বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন, কোনো আদেশ জারি কিংবা নির্বাচনী বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে ইরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। শাহরারা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের দেওয়া কিছু শর্ত মেনে নিতে হবে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ হতো, যা বর্তমানে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার নিউ ইয়র্কের গার্ডেন সিটিতে এক সমাবেশে পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, একটি দেশ যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্য পেট্রোলের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়া সার্থক। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় পেট্রোলের দাম কমানোর প্রতিশ্রুতি থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে তা উল্টো বেড়ে যাওয়ায় দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির চাপ ও জনমনে হতাশা তৈরি হয়েছে।