আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও গুণগত পরিবর্তন আনা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, নতুন কারিকুলামে ইংরেজি লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে ‘স্পিকিং টেস্ট’ বা কথা বলার দক্ষতা যাচাই পদ্ধতি চালু করা হবে।
রোববার ময়মনসিংহ বিভাগের জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহি ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়।
ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রাথমিক শিক্ষার রূপান্তরে যে স্বপ্ন ও দায়িত্ব দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নে সরকার সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পরিকল্পনা, পাইলটিং ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আগামী ছয় মাসের লক্ষ্যমাত্রাগুলোও যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিক করতে একটি সমন্বিত আইটি ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হচ্ছে, যার আওতায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য থাকবে একটি ‘ইউনিক আইডি’। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে পৃথক ওয়াশ ব্লকের পরিবর্তে স্কুল ভবনের ভেতরেই প্রয়োজনীয় ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হবে। কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, নতুন শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়ন, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি প্রাথমিক শিক্ষার্থীর জন্য পুষ্টিকর মিড-ডে মিল, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কারভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো শিশু শ্রেণিকক্ষের বাইরে না থাকে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারের লক্ষ্য শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়, বরং প্রতিটি বিদ্যালয়কে আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব করে গড়ে তোলা, যাতে এগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকার ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’ হয়ে ওঠে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষ মসজিদকে নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করলেও স্কুলকে তা ভাবে না। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বিদ্যালয়গুলোকে সবার নিজের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। স্কুল ফিডিং কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানে কাজ করছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিশ্চিত করেই এসব পরিবর্তন বিদ্যালয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেপের মহাপরিচালক ফরিদ আহমেদ। এর আগে সিলেট বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ছয়টি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে এটি আয়োজন করা হবে।