এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালটি বর্তমানে পুরোদমে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তুত থাকলেও, ২৩ আগস্ট পর্যন্ত কোনো এলএনজিবাহী কার্গো না পৌঁছানোয় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। এর ফলে সারা দেশে চলমান ভয়াবহ গ্যাস সংকট আরও অন্তত এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) ৬টি কার্গো আমদানির ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আজ একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সামনে সংকট রয়েছে এবং সরকার তা নিরসনে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ২১ জুলাই থেকে টানা ২৬ দিন ধরে দেশে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়ছে। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বিশেষ মহলের তদবিরকারীরা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী, যার ফলে জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বাধ্য হয়ে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে ৫টি এলএনজি কার্গো কেনার দরপত্র আহ্বান করেছে। আজ সন্ধ্যায় এই বিষয়ে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির একটি জরুরি জুম মিটিং ডাকা হয়েছে। স্পট মার্কেট থেকে কেনা কার্গোগুলো ২৩, ২৬, ২৯ আগস্ট এবং ১ ও ৪ সেপ্টেম্বর সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ব্লেক কিউব, মেক্স অয়েল ও জিং হু শিপিং—এই তিন কোম্পানির কাছ থেকে ৬টি কার্গো কেনার প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগ দিয়েছিল। এর মধ্যে জিং হু শিপিংয়ের আজ একটি কার্গো সরবরাহ করার কথা ছিল, কিন্তু সেটি আসছে না। ২৩ আগস্টও একটি কার্গো আসার কথা থাকলেও তা আসছে না বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহ ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে নেমে এসেছে, যা আগে ২৪০ কোটি ঘনফুটের বেশি ছিল। এক্সিলারেটের টার্মিনালে গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় এই সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ বহাল রাখা হয়েছে। মোট ২২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে ৯৬ কোটি ঘনফুট বিদ্যুৎ খাতে, ৯০১ কোটি ঘনফুট শিল্প খাতে এবং ২০ কোটি ঘনফুট সার কারখানায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সারা দেশে লোডশেডিং কিছুটা কমলেও জ্বালানি খাতের এই সংকট সরকারকে নতুন করে চাপে ফেলেছে।