মার্কিন প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান ছিল। কানাডার বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী ডমিনিক ল্যাব্লাঁ শুক্রবার সন্ধ্যায় মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষ করলেও কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেননি। স্থানীয় সময় শুক্রবার মধ্যরাত থেকে কানাডার ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। যদি এর আগে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে কানাডাকে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অনুযায়ী বাড়তি শুল্ক গুণতে হবে। এমনকি চুক্তি হলেও শুল্ক পুরোপুরি মাফ পাওয়ার সম্ভাবনা কম, বরং শুল্কের হার কমিয়ে আনার একটি সুযোগ থাকতে পারে।
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে আনার কথা বিবেচনা করছে। পাশাপাশি কানাডায় উৎপাদিত গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বিনিময়ে কানাডা মার্কিন দুগ্ধজাত পণ্যের জন্য নিজেদের বাজার উন্মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহলজাত পণ্যের বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে সম্মত হতে পারে। এছাড়া কানাডাও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রী ডমিনিক ল্যাব্লাঁ জানিয়েছেন, আলোচকদের এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাবেন এবং চুক্তির বিস্তারিত বিষয়গুলো শুক্রবার রাতের মধ্যেই চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকটি ছিল এখন পর্যন্ত অন্যতম দীর্ঘ আলোচনার একটি। এদিকে সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত কোনো চুক্তির কথা না জানালেও আলোচনা এগিয়ে চলছে বলে মন্তব্য করেছেন।