ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখার প্রতিটি পথ বন্ধ করে দেওয়া এখন ওয়াশিংটনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট ব্যাসেন্ট। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে তিনি এ কথা উল্লেখ করেন। ব্যাসেন্ট জানান, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক ডি-ডে বা চূড়ান্ত দিন ঘনিয়ে আসছে।
গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। এই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ টেনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, ওয়াশিংটন এমন একটি অর্থনৈতিক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চালানো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ হবে।
ব্যাসেন্ট এর আগে সতর্ক করেছিলেন যে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা অন্য দেশ ও কোম্পানিগুলোর ওপর আরও কঠোর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের সঙ্গে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলোকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। মতামত নিবন্ধে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছেন যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি সংস্থা ও কর্তৃত্বকে কাজে লাগানো সম্ভব। অনেক পদক্ষেপই এমন হতে পারে যা আগে কখনো প্রয়োগ করা হবে বলে কেউ ভাবেনি।
তিনি আরও স্পষ্টভাবে বলেন, তেহরানের সঙ্গে এখনো যেকোনো ধরনের সম্পর্ক বজায় রাখা দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে পড়বে। এই সম্পর্ক ইচ্ছাকৃত হোক বা জেনেশুনে উপেক্ষা করা হোক, তার পরিণতি একই হবে। বিশ্বের বোঝা উচিত যে, স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক পথ বিচ্ছিন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য। তেহরান একা না হওয়া পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত থাকবে বলে জানান স্কট ব্যাসেন্ট। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ানোর পরিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে।