বিশাল আকৃতির পদ্মপাতার ওপর মানুষ বা ভারী জিনিসপত্র ভাসিয়ে রাখার এক অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা চলছে বিশ্বজুড়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার বোটানিক গার্ডেনস প্রতিবছর আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এবারের আসরে বিশ্বের ৮টি দেশের প্রায় ৫০টি উদ্ভিদ উদ্যান (বোটানিক গার্ডেন) অংশ নিয়েছে।
প্রতিযোগিতার নিয়মটি বেশ সহজ ও মজার। বিভিন্ন দেশের উদ্যানকর্মীরা তাঁদের নিজেদের বাগানে চাষ করা ‘ভিক্টোরিয়া’ প্রজাতির অতিকায় পদ্মপাতার ওপর ভারী জিনিসপত্র রাখেন। এরপর মেপে দেখা হয় পাতাটি সর্বোচ্চ কত ওজন সহ্য করতে পারছে। সেই ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জমা দিতে হয়। সবচেয়ে বেশি ওজন ধরে রাখতে পারা পাতাটিই বিজয়ী ঘোষিত হয়।
‘ভিক্টোরিয়া’ জাতের পদ্মগুলো তাদের বিশাল আকারের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। দীর্ঘ ১৭৭ বছর ধরে ভুল চেনার পর ২০২২ সালে এই পরিবারের ‘ভিক্টোরিয়া বলিভিয়ানা’ নামের একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করা হয়, যা বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম পদ্ম প্রজাতির স্বীকৃতি পেয়েছে।
২০২৩ সালের বিজয়ী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ‘কিউ গার্ডেনস’ এবারও অংশ নিয়েছে। তারা ২ মিটার দীর্ঘ একটি পাতা বেছে নিয়ে প্রথমে সেটির ওপর ৪ কেজি ওজনের একটি প্লাস্টিকের তক্তা বসায়, যাতে ওজন সবদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর একে একে ১০০টি টিনের ক্যান রাখা হয়, যার ওজন ছিল প্রায় ৮১ কেজি। এতেও পাতাটি অক্ষত থাকলে তাদের উদ্যানতত্ত্ববিদ মার্টিন সিলনেভস নিজে পাতাটির ওপর বসেন। সব মিলিয়ে প্রায় ১০২ কেজি ওজন নিয়ে পাতাটি পানিতে ভেসে ছিল। তবে আরেকজন কর্মী যোগ দিতেই পাতাটি বেঁকে পানি ঢুকতে শুরু করে। মার্টিন সিলনেভস জানান, ১০০ কেজির বেশি ওজন সহ্যকারী পাতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতা ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। কাজ শেষে এই পাতাগুলোকে বাগানের জৈব সার তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, আমেরিকার ‘ফিপস কনজারভেটরি’ নামক উদ্যানটি বেশ মজার একটি কাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা ‘অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড’ গল্পের আদলে সেজে পদ্মপাতার ওপর টেবিল-চেয়ার পেতে বসে বিকেলে চা পানের আয়োজন করে। পাতাটি মোট ৭৩ কেজি ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
তবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে গতবারের আরেক বিজয়ী দল ‘বক টাওয়ার গার্ডেনস’। তারা পদ্মপাতার ওপর একটি সোজা কাঠের তক্তা বিছিয়ে জিমের ভারী ওজন চাপাতে শুরু করে। আশ্চর্যজনকভাবে, পাতাটি না ভেঙে মোট ১২৯ কেজি ওজন ভাসিয়ে রেখে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এখন দেখার বিষয়, ১২৯ কেজির এই রেকর্ড ভেঙে অন্য কোনো বাগান নতুন কীর্তি গড়তে পারে কি না।