ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য বিভাগে যেকোনো অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। রোববার বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, প্রয়োজনে তাদের চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়া উচিত।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে একেবারে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। উন্নয়নের নামে এখানে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট চালানো হয়েছে। বিশেষ করে পর্দা ও বালিশকাণ্ডের মতো ঘটনার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হলেও সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব হয়নি। ফলে রোগীরা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।
সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় মন্ত্রী সরাসরি কাউন্টারে গিয়ে সাধারণ রোগীদের মতো লাইনে দাঁড়ান এবং সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, নার্সিং ডিউটি রুম, টয়লেট, রান্নাঘর ও ওষুধের স্টোর রুম ঘুরে দেখেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের কাছে সমস্যার কথা জানতে চাইলে তারা চিকিৎসক ও জনবলের অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ওষুধের ঘাটতির কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
রোগীদের এসব অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শুনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের তিন সিনিয়র সেবিকা— রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওষুধের তীব্র সংকট মেটাতে তিনি সরাসরি ইডিসিএলের (এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের তাগিদ দেন।
সদরপুরে আসার আগে মন্ত্রী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন। সদরপুরে মন্ত্রীর এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান, চরভদ্রাসন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাফিজুর রহমান, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সদরপুরের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মমিনুর রহমান সরকার এবং সদরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী বদরুজ্জামান বদুরসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা।