প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ২৭
পারস্য উপসাগরের লারাক দ্বীপে মার্কিন সামরিক হামলার পর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ইরান। এই হামলায় দেশটির সেনাসদস্য ও সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে চালানো নিজেদের হামলাকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে ইরান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, সোমবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপস্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত গোলামহোসেইন দারজি। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত রোববার সন্ধ্যায় লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়, যার ফলে ইরানের সরকারি ও বেসরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এই হামলাকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন গোলামহোসেইন দারজি। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক তৎপরতাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেন। এ ধরনের হামলার জন্য তিনি সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং হামলার নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের দায়ী করেছেন।
চিঠিতে ইরানি রাষ্ট্রদূত আরও দাবি করেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরান এখন পর্যন্ত যথেষ্ট সংযম প্রদর্শন করেছে। তবে ভবিষ্যতে ইরানের ওপর পুনরায় কোনো হামলা চালানো হলে, তার উপযুক্ত জবাব দিতে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। ইতোমধ্যে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ইরানের উপস্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা বন্ধের দাবি জানায়। এছাড়া ইরানের পাঠানো এই চিঠিটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অফিশিয়াল বা সরকারি নথি হিসেবে প্রচার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।