মানুষের চিকিৎসায় ভেষজ উদ্ভিদের ভূমিকা হাজার বছরের পুরনো। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যাপক অগ্রগতির পরেও ঔষধি গাছের রাসায়নিক উপাদান ও কার্যকারিতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলমান রয়েছে। এই ঐতিহ্য ও আধুনিক গবেষণার সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে গড়ে তোলা হয়েছে একটি সমৃদ্ধ ঔষধি বাগান। ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাগানটি তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয় এবং পরের বছর থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ ও সৌন্দর্যায়নের কাজ শুরু হয়। ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী সংগঠন 'ফার্মেসি সোসাইটি'র উদ্যোগে সমৃদ্ধ এই বাগানে বর্তমানে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির ঔষধি গাছ রয়েছে।
বাগানটিতে থাকা উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে নিম, তুলসী, হরীতকী, অর্জুন, আমলকী, তেজপাতা, হাসনাহেনা, চুইঝাল, কর্পূরদাম, পেনসিল ক্যাকটাস, ডালিম, দারুচিনি, তেঁতুল ও সাদা জবা। এই বাগানটি ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াবিদ আল ইজাজ জানান, শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাগানে সরাসরি উদ্ভিদ পর্যবেক্ষণের সুযোগ শিক্ষাকে আরও কার্যকর ও বাস্তবমুখী করে তুলেছে।
তবে এই বাগানের সম্প্রসারণে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের ঔষধি উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া গাছের যথাযথ বৃদ্ধি ও পরিচর্যার জন্য পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও নিরাপত্তার অভাবে অনেক সংবেদনশীল গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় অসচেতনভাবে পাতা বা ফুল সংগ্রহ করতে গিয়েও গাছের ক্ষতি হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য বাগানের প্রয়োজনীয় সুবিধার বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। নতুন ক্যাম্পাসে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পর্যাপ্ত আলো-বাতাস নিশ্চিত করে একটি নতুন মেডিসিনাল গার্ডেন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক যাচাই-বাছাই অত্যন্ত জরুরি, কারণ ভুল বা অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতির কারণ হতে পারে।