মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইনে ‘খুব শিগগির’ সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির জবাবে ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়েও ট্রাম্প একই ধরনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলিরেজা এলহামি বলেন, ইরান বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনো সংঘাত মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, কারণ হুমকি এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে ঘিরে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘ছোটখাটো বিষয়’ বলে অভিহিত করেছেন। তার দাবি, ভিয়েতনাম যুদ্ধে ১ লাখ মার্কিন নাগরিক নিহত হলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৮ জন আমেরিকান নিহত হয়েছেন। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, নিহত ১৮ মার্কিন সেনা, আহত শত শত সেনাসদস্য এবং অর্থনৈতিক সংকটে থাকা আমেরিকানদের কাছে এই যুদ্ধকে ছোটখাটো বলার কোনো সুযোগ নেই।
পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইন মূলত স্থানীয়ভাবে ‘কুহ-ই কোলাং গাজ লা’ নামে পরিচিত। এটি ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত। গোয়েন্দা সংস্থা ও অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাহাড়ের গভীরে বিশাল দুটি সুড়ঙ্গ কমপ্লেক্স নির্মাণ করে ইরান সেখানে গোপন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র গড়ে তুলছে, যা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির একটি কৌশলগত বিকল্প হতে পারে। তবে ইরান দাবি করেছে, এটি মূলত সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলো এমন গভীরতায় তৈরি যে এগুলো বাঙ্কার ধ্বংসকারী শক্তিশালী বোমার আঘাত থেকেও সুরক্ষিত থাকতে পারে। ট্রাম্প জুলাই মাসে হিউ হিউইট শো’তে বলেছিলেন, তারা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেইন ধ্বংস করতে যাচ্ছেন এবং ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন।
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে তথ্য ফাঁসের ঘটনায় পেন্টাগনে তোলপাড় চলছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ সদস্যের পলিগ্রাফ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যে, ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার তথ্য তারা সাংবাদিকদের দিয়েছেন কি না। পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের প্রতিটি ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ গাজা থেকে মানুষ সরিয়ে দেওয়াকে সংকট সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করার পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের কোনো পরিকল্পনাকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে না।