ইয়েমেনে সৌদি আরব সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যকার লড়াই প্রতিদিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এই সংঘাতের ফলে উভয় পক্ষে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে এবং পরিস্থিতি ক্রমে জটিল হয়ে উঠছে। তীব্র লড়াইয়ের মুখে ইয়েমেনের অন্তত ১ লাখ ১২ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে সরে গেছেন। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার ইয়েমেনি এডেন উপসাগর পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার তাইজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। সরকারি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই লড়াইয়ে অন্তত ৩০ জন হুতি যোদ্ধা নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। একই প্রদেশের আল-ধিকরা, আল-দামনা ও আল-রাহিদা এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার এএফপিকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় সৌদি বিমান হামলায় ৪০ জন হুতি যোদ্ধা এবং হুতিদের পাল্টা হামলায় ২৩ জন সরকারি সেনা নিহত হয়েছিলেন।
ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালির মাইয়ুন দ্বীপ, হানিশ দ্বীপ এবং বন্দর শহর মোখা হুতিদের দখলে চলে যাওয়ায় লোহিত সাগর উপকূল এখন অনেকটাই তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি এই পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলেছেন, সানা বিমানবন্দরে হামলার পর তারা আত্মরক্ষার্থে সংঘাতে জড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
এই সংঘাতের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক অর্থনীতি ও সামাজিক কমিশনের নির্বাহী সচিব রনিয়া আল-মাশাত জানান, ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে আরব দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রায় ১৫ হাজার কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে, যা দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব মিত্রদের কাছে সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিতে আইনপ্রণেতাদের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো রাডার ফাঁকি দিয়ে হামলা চালাতে সক্ষম। এদিকে পাকিস্তান সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে রিয়াদকে সমর্থনের বার্তা দিলেও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে, চীন তেহরানকে হুতিদের লাগাম টানার আহ্বান জানালেও, ইরানের সঙ্গে বেইজিংয়ের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে এই চাপে কতটা কাজ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।