ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে অভিবাসন ইস্যু যখন বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, ঠিক সেই সময়ে রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব সংগঠনের জাতীয় উৎসবে তিনি এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন।
মেলোনি জানান, ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় খাপ খাইয়ে নিতে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তাদের অভিভাবকদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখা বাধ্যতামূলক করা হবে। তিনি বলেন, যে কেউ ইতালিতে এসে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চাইলে তাকে অবশ্যই আমাদের ভাষা শিখতে হবে, সংস্কৃতি বুঝতে হবে এবং নিয়মকানুনকে সম্মান করতে হবে। সরকারিভাবে এই পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদনের পর তা আইনে পরিণত করতে ৬০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
বর্তমানে ইতালিতে বোরকা বা নিকাব সরাসরি নিষিদ্ধ নয়। ১৯৭৫ সালের আইন অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন করে এমন পোশাক বা হেলমেট পরা নিষিদ্ধ, তবে যৌক্তিক কারণ থাকলে তা অনুমোদিত। এছাড়া ২০০৮ সালের একটি রায়ে বলা হয়েছে, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে মুখ ঢাকা পোশাক পরা যাবে, কিন্তু পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজনে তা উন্মুক্ত করতে হবে। এর আগে সরকারের অংশীদার অভিবাসনবিরোধী লীগ পার্টিও ক্রীড়া বা উপাসনালয় ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের একটি বিল উত্থাপন করেছিল।
শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে মেলোনি আইনি সীমা আরোপের কথা উল্লেখ করলেও, বর্তমানে ইতালির স্কুলগুলোতে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি এবং এরই মধ্যে একটি শ্রেণি বা স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার বিধান রয়েছে। তবে নতুন প্রস্তাবে এই সীমা কীভাবে পরিবর্তন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি প্রধানমন্ত্রী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই সরকার আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনে ন্যাশনাল ফিউচারের (এফএন) কাছ থেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।