ইরাকে দীর্ঘ দুই দশকের সামরিক উপস্থিতির ইতি টেনে দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনীকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার শেষ মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করেন। আল-জাজিরাকে ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরাকে এখন আর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর কোনো সেনা নেই এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরাকি বাহিনী সক্ষম।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই ঘটনাকে ইরাকের জন্য নতুন দিনের সূচনা হিসেবে দেখছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। তিনি মন্তব্য করেছেন, এর মাধ্যমে ইরাক সব ধরনের বিদেশি সামরিক উপস্থিতি থেকে মুক্ত হলো এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হলো। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সের কমান্ডার আবু মোজতাবা আল-ইয়াসিরি এই দিনটিকে ইরাকের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের অবসান এবং ‘ঐতিহাসিক জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
তবে এই সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ইরাকের সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফালুজা অঞ্চলের আদিবাসী নেতা আবদুল রহমান আল-জোবাইর নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরাক এই মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। মার্কিন বাহিনীর চলে যাওয়ার ফলে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর অনুপস্থিতিতে ইরাকে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। ইরাকি নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে জানান, মার্কিন জোট সরে যাওয়ায় কৌশলগতভাবে ইরান লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে, কারণ এতদিন মার্কিন উপস্থিতি তেহরানের প্রভাবের বিপরীতে ভারসাম্য বজায় রেখেছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়। ২০০৭ সালে সেখানে মার্কিন সেনার সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের জন্য পুনরায় সেনা পাঠানো হয়। ২০২৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করা সমঝোতা অনুযায়ী, দেশটিতে থাকা আড়াই হাজার সেনার পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, যা গতকাল শেষ হলো।
২০০৬ সালের ডিসেম্বরে সাদ্দামের ফাঁসি দেওয়া হয়।
এই সেনাদের একটি অংশ ২০১১ সালে ইরাক ছাড়ে।