রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে মো. সোহান (৩৫) নামের এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে পিস্তল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়ে অন্তত দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন ওই নেতা। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে সাবেক যুবদল নেতা মোহাম্মদ সায়মন ও তার তিন সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ ও সোয়াট (SWAT) সদস্যরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহত ব্যবসায়ী সোহান জানান, বাংলামোটর এলাকায় তার একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোহাম্মদ সায়মন দীর্ঘদিন ধরে বাংলামোটর ও এর আশেপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারের উত্তর পাশের গলিতে সায়মন ও তার কয়েকজন সহযোগী হঠাৎ সোহানের পথরোধ করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সায়মন তার কোমর থেকে পিস্তল বের করে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।
সোহানের চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সায়মন তাদের ভয় দেখাতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপরও এলাকাবাসী পিছু না হটে ধাওয়া দিলে সায়মন তার সহযোগীদের নিয়ে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নেন। এ সময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত সোহানকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এদিকে ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সায়মনের বাড়ির সামনে শতাধিক মানুষ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা সায়মনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে প্রথমে স্থানীয় থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও উত্তেজিত জনতার কারণে সায়মনকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এআরবি, অতিরিক্ত পুলিশ এবং সোয়াট সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরিয়ে দেন এবং সায়মনসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সোহাগের (সোহান) মাথায় আঘাত করেন সায়মন। এতে তিনি আহত হন। এরপর সায়মন দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়রা সায়মনের বাসার সামনে জড়ো হলে সেখান থেকে সায়মনসহ ৪ জনকে আটক করা হয়।
সায়মনের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল মিরাজ জানান, সায়মন দীর্ঘদিন ধরে আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে তটস্থ করে রাখতেন। সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে অনেক আগেই হাতিরঝিল থানা যুবদলের আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।