প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’ আবার একসঙ্গে হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে যাওয়ার কয়েকদিন পরই দেখা গেছে, গুপ্ত বাহিনীর লোকজন বলছে—‘তারা যদি আসে, থাকে, কাজ করে আমাদের কোনো আপত্তি নাই।’ তিনি আরও বলেন, আপত্তি থাকবে কীভাবে, তারা তো বরাবরই একসঙ্গে ছিল।
তারেক রহমান বলেন, ৯০ সালেও তারা একসঙ্গে ছিল, ৮৬ সালেও ছিল এবং গত নির্বাচনের সময়ও তারা তলে তলে কাজ করেছে। এজন্যই তাদের ‘গুপ্ত’ বলা হয়। বিগত ১৭ বছরে বিএনপির নেতাকর্মীরা জেল-জুলুম, হত্যা এবং গায়েবি মামলার মাধ্যমে যে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে কিছু মানুষ অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে এবং ‘এক দফা’র নামে কর্মসূচি দিচ্ছে। অথচ বর্তমান সরকারের কর্মসূচি সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের উপকারে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, যারা দেশ থেকে পালিয়ে গেছে বা অরাজকতা করছে, তাদের কি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স উন্নয়নের মতো জনগণের উপকারে আসে এমন কোনো কর্মসূচি আছে? তিনি বলেন, মানুষ নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন চায়। বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন এবং বন্ধ মিল-কারখানা চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। তিনি নির্বাচনের আগে একটি দলের ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির প্রচারের সমালোচনা করে বলেন, বেহেশত-দোজখের মালিক একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন।
তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনে যাদের কোনো কর্মসূচি নেই, তাদের ব্যাপারে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা জনগণের জন্য কাজ করে এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ৫০ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ফ্যামিলি কার্ড ও ১৫০ জন কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের কর্মীদের সম্মানী প্রদান করেন। সভা শেষে তিনি ফুলগাজীর জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এর আগে দুপুরে পরশুরামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের উদ্বোধন এবং ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।