রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ সড়কটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি খোলামেলা। দীর্ঘদিনের পরিচিত 'হোপ মার্কেট' এলাকাটি এখন হকার ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতামুক্ত। গত বুধবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের পর থেকে পুরো এলাকাটি দখলমুক্ত হয়েছে। অভিযানের আগে হোপ মার্কেটকে কেন্দ্র করে মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ১১/১ ও ১১/২ নম্বর লেন, বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদের পাশের ফুটপাত, মিরপুর আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং সি ব্লকের অ্যাভিনিউ-২ থেকে ৬ নম্বর লেন পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার সড়কের দুই পাশের ফুটপাতের পুরোটাই দখলে ছিল হকারদের।
শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফুটপাত ও সড়ক এখন পুরোপুরি ফাঁকা। আগে যেসব স্থানে কাঠ-বাঁশের খুঁটি ও পলিথিনের ছাউনি দিয়ে অস্থায়ী দোকান বসানো হতো, এখন সেখানে কোনো চিহ্নই নেই। পথচারীরা নির্বিঘ্নে প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে হাঁটাচলা করা অসম্ভব ছিল, কিন্তু এখন সেই ভোগান্তি নেই।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকার ও সিটি করপোরেশন কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বুধবার সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে।
হোপ মার্কেটের পাশের বি ব্লকের ১১/২ নম্বর লেনের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি স্বস্তি বোধ করছেন। তবে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশন যেন নিয়মিত তদারকি বজায় রাখে যাতে ফুটপাত আবারও দখল না হয়ে যায়। হোপ মার্কেটে কাপড় কিনতে আসা শিক্ষার্থী সুরাইয়া মিম ও নওশীন জাহানও ফুটপাতের এই নতুন রূপ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।