মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে ইরান এখন প্রায় পুরোপুরি সরে এসেছে। ওহাইও যাওয়ার উদ্দেশে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানকে ঘিরে এখন তাকে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং তেহরানের সামনে সহজ অথবা কঠিন—যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সময় তিনি আরও বলেন, ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, তবে কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটনে যখন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে, তখনই ট্রাম্পের এই বক্তব্য এলো। তেহরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা থমকে থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ইরান ও ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। এই যুদ্ধের অষ্টম মাসে এসে শনিবার ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইরান প্রায় সব পারমাণবিক পরিকল্পনা ছেড়ে দিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দামের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তেলের দাম কমছে এবং তা বাইডেন প্রশাসনের সময়ের তুলনায়ও কম। তিনি বলেন, বাইডেন প্রশাসন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার বিষয়ে কোনো কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি। অথচ বর্তমানে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গিয়েছিল, যা এখন নিম্নমুখী।
ইরান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময়ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা নিজেদের শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিতে আপস করবে না কিংবা কোনো কাঠামোগত ছাড় দেবে না।
প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৫১আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৫৪