খুলনার কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিসে তীব্র জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। অনুমোদিত ১১টি পদের বিপরীতে দীর্ঘ সময় ধরে ৭টি পদই শূন্য পড়ে থাকায় দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৫টি পদের মধ্যে ৩টি পূরণ থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো ফাঁকা রয়েছে। এছাড়া উচ্চমান সহকারী, হিসাব সহকারী, অফিস সহকারীর ২টি পদ এবং এমএলএসএসের সবকটি পদই শূন্য। দীর্ঘদিন নতুন কোনো নিয়োগ না হওয়ায় কর্মরত অল্পসংখ্যক কর্মকর্তার ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
জনবল সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উপজেলার ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওপর। শিক্ষক তদারকি, বিদ্যালয় পরিদর্শন, হিসাব-নিকাশ, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে শিক্ষকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মদিনাবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহীদ সরোয়ার জানান, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ প্রয়োজন।
পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করে কয়রা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, জরুরি দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখতে বর্তমানে বাধ্য হয়ে বহিরাগতদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব পদে স্থায়ী জনবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।