রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে হোয়াইট হাউসের একতরফা যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ভেস্তে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুশিয়ারি উপেক্ষা করে কিয়েভ পুনরায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা শুরু করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। মস্কো অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেন তাদের রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আকস্মিকভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণার পর এটিই প্রথম হামলার ঘটনা। তবে রাশিয়া বা ইউক্রেন কোনো পক্ষই জানায়নি যে তারা এমন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল।
ট্রাম্প ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, এসব হামলার কারণেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জবাবে জেলেনস্কি বুধবার জানিয়েছেন, তারা রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা আবার শুরু করবেন। শান্তি আলোচনায় বসার সদিচ্ছা দেখানোর জন্য সাময়িকভাবে এসব হামলা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। জেলেনস্কি বলেন, ‘হামলা না করার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা উঠে গেছে। আমরা শেষ করেছি।’
অন্যদিকে, মস্কো রাতভর রেকর্ডসংখ্যক ড্রোনের ঝাঁক পাঠিয়ে মধ্য ইউক্রেনের অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় কিরোভোহরাদ অঞ্চলে সাধারণত হামলার ঘটনা কম ঘটে থাকে। রুশ বাহিনীর ছোঁড়া ৩৬০টিরও বেশি ড্রোনের হামলায় ওই অঞ্চলে তিনজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।
গত এক সপ্তাহে জেলেনস্কি ও ট্রাম্পের মধ্যকার বিরোধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ট্রাম্প মনে করেন, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে দেশটির নেতৃত্বের ওপর তার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, ইউক্রেনের ‘নতুন প্রেসিডেন্ট পাওয়া উচিত’ বলে তিনি মনে করেন।