হলিউড অভিনেতা টোবি ম্যাগুয়ার তার সাবেক স্ত্রী জেনিফার মেয়ার ও ব্যবসায়ী জিওফ্রে ওগুনলেসির বিয়ের অনুষ্ঠানে পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১০ অক্টোবর হাওয়াইয়ের ফোর সিজনস রিসোর্ট লানাইয়ে একটি ঘরোয়া আয়োজনে তাদের এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও, জেফ বেজোস, কোর্টনি কক্স ও র্যাচেল জোসহ বেশ কয়েকজন তারকা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর প্রেমিকা ভিটোরিয়া সেরেত্তি এবং জেফ বেজোসের স্ত্রী লরেন সানচেজ বেজোসও এতে অংশ নেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর টোবি ও জেনিফারের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই এই বিয়ের আয়োজন করা হলো। যদিও প্রায় এক দশক আগে তারা বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবুও দুই সন্তানের যৌথ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক সব সময় ঘনিষ্ঠ ছিল। মায়ের বিয়েতে টোবি ও জেনিফারের দুই সন্তান রুবি সুইটহার্ট ও ওটিস টোবিয়াস উপস্থিত ছিল। এছাড়া জিওফ্রের সঙ্গে জেনিফারের নবজাতক কন্যাও অনুষ্ঠানে ছিল। ৪৯ বছর বয়সী জেনিফার বিয়েতে সাদা রঙের স্ট্র্যাপলেস গাউন পরেছিলেন এবং জিওফ্রে কালো স্যুট ও বো-টাই বেছে নিয়েছিলেন।
জেনিফার মেয়ার ও জিওফ্রে ওগুনলেসির সম্পর্কের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২৩ সালে। ওই বছরের নভেম্বরে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘বেবি২বেবি’-র বার্ষিক গালায় তারা একসঙ্গে লালগালিচায় হাজির হন। জেনিফার এই সংস্থার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য। ২০২৪ সালের আগস্টে জিওফ্রে জেনিফারকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। চলতি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে এই দম্পতির প্রথম কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। জুনে ফাদার্স ডে উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে জেনিফার জিওফ্রেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়ের জন্মের খবর নিশ্চিত করেছিলেন।
জিওফ্রে ওগুনলেসি বিনোদন ও সংগীত ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘দ্য ওগুনলেসি গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ইয়ং থাগ, চার্লিওনাফ্রাইডে ও মাইলস ফ্রস্টের মতো শিল্পীরা যুক্ত রয়েছেন। তিনি নাইজেরিয়ার ধনকুবের আইনজীবী ও বিনিয়োগ ব্যাংকার আদেবায়ো ওগুনলেসির ছেলে। অন্যদিকে জেনিফার নিজের নামে ‘জেনিফার মেয়ার জুয়েলারি’ ব্র্যান্ড পরিচালনা করছেন।
২০০৩ সালে ‘সিবিস্কুট’ সিনেমায় কাজ করার সময় টোবি ও জেনিফারের পরিচয় হয়। ২০০৭ সালে তারা হাওয়াইয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। ২০০৬ সালে তাদের মেয়ে রুবি এবং ২০০৯ সালে ছেলে ওটিস জন্মগ্রহণ করে। নয় বছরের দাম্পত্যের পর ২০১৬ সালে বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই দম্পতি। এরপর ২০২০ সালে জেনিফার আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। বিয়ে ভেঙে গেলেও সন্তানদের একসঙ্গে বড় করার বিষয়ে তাদের সম্পর্ক বেশ সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের মে মাসে ‘পিপল’ সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেনিফার জানিয়েছিলেন, তারা সবাই একসঙ্গে ভ্রমণ করেন এবং প্রতিটি ছুটির দিন ও জন্মদিন একসঙ্গে পালন করেন। টোবির প্রশংসা করে জেনিফার বলেছিলেন, ‘সে অসাধারণ একজন বাবা।’