নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাহেব আলীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শুটার রনিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার দিন সাহেব আলীকে গুলি করার পর তিনি পাশের একটি নালায় পড়ে যান। এরপর রনি আবারও গুলি চালিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। দিনের আলোয় সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণকৃত এই হত্যাকাণ্ডের ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। মূল অভিযুক্ত রনি নারায়ণগঞ্জ থেকে পালিয়ে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ১৩ অক্টোবর এ ঘটনায় সাব্বির নামে তিন নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া এই চক্রের আরও আটজনকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে এসআরবি জানিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ বলেন, নিহত সাহেব আলী ও অভিযুক্ত রনি দুজনই এলাকায় সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তারা একই গ্রুপে কাজ করতেন, তবে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এককভাবে নিজের হাতে রাখা এবং ব্যবসার ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সেই বিরোধের জেরেই এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, সাহেব আলী ও রনি দুজনই অতীতে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত ছিলেন। রনির বিরুদ্ধে দুটি হত্যা, ছিনতাই ও মারামারিসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক জানান, চাষাঢ়া ও রূপগঞ্জ থেকে কোবরা রাসেল ও শ্রাবণসহ একাধিক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে অভিযান চালানো হয় না। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।