ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে সারা দেশে এক ধরনের ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অকারণে ককটেল বিস্ফোরণ, গুলি বর্ষণ, হুমকি-ধমকি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল বের করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। সমালোচকদের মতে, আওয়ামী লীগ জন্ম থেকেই হিংস্র। ২৩ জুন তাদের জন্মতারিখ, আর সেই ২৩ জুনই পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য স্তিমিত হয়েছিল। এছাড়া দু-একটি স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গণ-অভ্যুত্থানে পরাজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিনক্ষণকে সামনে রেখেই এসব পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ জানিয়েছেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। তবে এই অপচেষ্টা সফল হবে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় আনছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ধরনের অস্থিরতা তৈরির প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। গত ২২ অক্টোবর নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশায় মাইকিং করে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা দেওয়ার ঘটনা ভাইরাল হয়েছে। বিএনপি নেতা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল মনে করেন, আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্র করছে, তবে সাধারণ মানুষ সতর্ক রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে নাকি সরকারের ভেতর থেকে হচ্ছে, তা তদন্ত সাপেক্ষ।
আতঙ্কের এই প্রভাব সংস্কৃতি অঙ্গন ও ব্যবসায়ী মহলেও পড়েছে। গত শনিবার ভোরে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটে। এছাড়া হাজারীবাগে ২০ অক্টোবর কুরিয়ার সার্ভিসের একটি ওয়্যারহাউজে মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল হামলা চালিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকার মালামাল লুট করে সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো করে দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রমতে, বিভিন্ন চক্র রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে গুজব ও ভীতি ছড়াচ্ছে। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত নম্বর সংগ্রহ করে হুমকি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের হুমকির অডিও ভাইরাল হয়েছে। খুলনাও এখন সন্ত্রাসের জনপদে পরিণত হয়েছে; যেখানে গত ২২ অক্টোবর ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন নিহত হয়েছেন এবং সর্বশেষ শনিবার তেরখাদায় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না এবং ডিএমপি যেকোনো উসকানি কঠোর হাতে দমনে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।