স্পেনের মধ্যাঞ্চলের তোলেদো প্রদেশে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে দেশটিতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কার্যকর হয়েছে।
দুর্ঘটনার শিকার ট্রেন দুটি মাদ্রিদ থেকে সোয়েদাদে যাচ্ছিল। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে রেললাইনের প্রধান এলজেডবি সিগন্যালে ত্রুটি দেখা দেয়। এ সময় সেখানে থাকা সব ট্রেনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামার সংকেত দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রেন দুটির মধ্যে রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি পেছনে ছিল এবং ইরো ট্রেনটি ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
স্পেনের সরকারি রেলঅবকাঠামো পরিচালনা সংস্থা ‘আদিফ’ সিগন্যালে ত্রুটি পাওয়ার পর ট্রেন পরিচালনার কমান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নেয়। এ সময় কমান্ডে থাকা ব্যক্তি সিগন্যালে লালবাতি থাকা সত্ত্বেও ‘রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটিকে’ চলার অনুমতি দেন। ট্রেনটির জন্য কোনো গতির সীমাও নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে রেনফে হাইস্পিড ট্রেনটি ২০০ কিলোমিটার গতিতে গিয়ে ২৫ কিলোমিটার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ইরো ট্রেনটিকে সজোরে ধাক্কা মারে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, স্পেনের মতো দেশে একই বছরে উচ্চগতির ট্রেনের দুটি দুর্ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি উচ্চগতির রেলব্যবস্থার ওপর জনসচেতনতা ও আস্থা ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ খাতে যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
চলতি বছরের শুরুতে স্পেনের একই রেলপথে অন্য আরেকটি দুর্ঘটনায় ৪৮ জন নিহত হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনায় বর্তমান দুর্ঘটনার সঙ্গে পূর্বের ওই ঘটনার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।