সিলেট মহানগরীর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার আলোচিত মামলায় ৬ আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী এই রায় প্রদান করেন। রায়ে মামলার প্রধান আসামি ও বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস (৩৮) এবং কনস্টেবল হারুন অর রশীদকে (৩২) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। মামলার বাকি তিন আসামি বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহী (৪৩), এএসআই হাসান উদ্দিন এবং সংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমানকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই মামলায় মোট ৬৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে আটক করা হয়। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি এএসআই আশেক এলাহীকে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সংবাদকর্মী নোমান ঘটনার শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। এ ছাড়া আশেক এলাহী ছাড়া বাকি আসামিরা জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই পলাতক।
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তের পর্যবেক্ষণে জানা যায়, রায়হানের শরীরে ৯৩টি আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং আঘাতের ফলে তার চামড়ার নিচে রক্ত জমে গিয়েছিল। এছাড়া তার হাত ও পায়ের আঙুলের নখ তুলে ফেলার মতো ভয়াবহ নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়। রায়হান নিহতের ঘটনায় তার স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন। পিবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় এবং একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রায়হানের মা সালমা বেগম বলেন, রায়ে প্রাথমিকভাবে তারা সন্তুষ্ট হলেও আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আসামিরা শাস্তি না পেলে তো আমার ৬ বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেলো।’ তিনি বলেন, ‘পাঁচ বছর একজনেরও জামিন হয়নি, কিন্তু মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পর প্রথম তিনজন আসামির জামিন পাওয়া এবং পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তাদের কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আসামিরা শাস্তি না পেলে এই দীর্ঘ অপেক্ষার কোনো সার্থকতা থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামিই জামিন পায়?