সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত প্রতিরক্ষা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি বর্তমানে সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জানিয়েছেন যে, এ নিয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। শনিবার বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা সংলাপ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়নের জন্য বর্তমানে আলোচনা চলছে।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় এই প্রতিরক্ষা জোটের যাত্রা শুরু হয়। এই জোটের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, জোটভুক্ত কোনো সদস্য দেশ যদি হামলার শিকার হয়, তবে সেটিকে অন্য সদস্য দেশগুলোর ওপরও হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নিয়মিত হামলার মুখে সৌদি আরব তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসে হুথিদের একটি বড় ধরনের হামলার জেরে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল। যদিও শুক্রবার সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনবিরোধী জোট দাবি করেছে যে, তারা মক্কা ও মদিনা অঞ্চলের আকাশে হুথিদের পাঠানো বেশ কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে, তবে হুথিরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
হুথিদের এই ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরবের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রিয়াদে আকস্মিক সফর করেন। সে সময় তিনি জানান, সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো রক্ষায় ফরাসি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গত অক্টোবরে যুক্তরাজ্যও সৌদি আরবকে সহায়তা করার লক্ষ্যে যুদ্ধবিমান পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বাহরাইনে অনুষ্ঠিত মানামা সংলাপ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মক্কা জোটে সিরিয়ার অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি মূল্যায়নে বর্তমানে আলোচনা চলছে।’