যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি একই সঙ্গে স্বস্তিদায়ক এবং বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। একদিকে জনমত জরিপগুলো সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে দলটির জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দলীয় এক শীর্ষ নেত্রীর রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া নতুন অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাতেই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকবে, নাকি সেটা চলে যাবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হাতে, তা নির্ধারিত হবে এই ভোটে। এবারের নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫ আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫ আসনে ভোট হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮ ও ডেমোক্র্যাটদের ২১৪ আসন রয়েছে, আর সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৫টি আসন আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে ২১৮ এবং সিনেটে ৫১টি আসন প্রয়োজন।
নিউইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে আছে। মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ৫৩ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের (৪২ শতাংশ) চেয়ে এগিয়ে। টেক্সাসে জেমস টালারিকোর সমর্থন ৫০ শতাংশ, যেখানে তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটনের সমর্থন ৪৩ শতাংশ। এছাড়া মেইন, ওহাইও ও কানসাসেও ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে রয়েছে। যদিও আলাস্কা ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যে ব্যবধান অত্যন্ত কম, যা জরিপের ত্রুটিসীমার মধ্যে পড়ে, তবুও এই সাতটি অঙ্গরাজ্যের কোথাও ডেমোক্র্যাটরা পিছিয়ে না থাকায় দলটির মধ্যে কিছুটা স্বস্তি কাজ করছে।
এই ইতিবাচক সংবাদের মধ্যেই মিশিগান থেকে বিব্রতকর খবর এসেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বাছাইপর্বে পরাজিত কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। ইসরায়েল ও গাজা ইস্যুতে দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যই এই বিভেদের মূল কারণ। স্টিভেন্স ইসরায়েলের কট্টর সমর্থক, অন্যদিকে আল-সাইয়েদ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক। একটি বিতর্কিত বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে স্টিভেন্স আল-সাইয়েদকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে অভিযুক্ত করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
এই বিরোধের কারণে ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় দলীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বাতিল করতে হয়। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সভাপতি কার্টিস হার্টেল স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তকে মূল্যবোধের বিসর্জন বলে অভিহিত করেছেন। তবে এই প্রতিকূলতার মধ্যেও আল-সাইয়েদের প্রচারশিবির দাবি করেছে, স্টিভেন্সের ঘোষণার পর চার ঘণ্টায় তারা ১২ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জরিপে এগিয়ে থাকলেও এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বিরোধ মেটানো এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনা ডেমোক্র্যাটদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।