সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো, বিমানবন্দর এবং সমুদ্রবন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সমন্বিত সামরিক হামলার আশঙ্কা করছে রিয়াদ। সৌদি সরকারের জ্যেষ্ঠ সূত্রের দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) তত্ত্বাবধানে উত্তরে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং দক্ষিণে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের মাধ্যমে এই হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের নাজরান প্রদেশে ১১ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, আহতদের মধ্যে সাতজন সৌদি নাগরিক, একজন ইয়েমেনি, দুইজন মিসরীয় এবং একজন পাকিস্তানি রয়েছেন। আহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুও রয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে তেহরানের একটি চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। আধা-সরকারি ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই চুক্তিতে জাহাজ চলাচলের জন্য তিন ধাপের একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জাহাজগুলো প্রণালিতে প্রবেশের সময় ইরান উপকূল এবং বের হওয়ার সময় ওমান উপকূল ব্যবহার করবে। পরবর্তীতে দুটি লেন বন্ধ করে একটি একক কেন্দ্রীয় করিডোর চালু করা হবে। এক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের সময় ইরান এককভাবে এবং বের হওয়ার সময় ইরান ও ওমান যৌথভাবে তদারকি করবে।
তবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি সতর্ক করেছেন যে, এই দ্বিপক্ষীয় ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত হলেও প্রণালিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত হবে না। তিনি জানান, মুক্ত চলাচলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, নতুন নিষেধাজ্ঞা বাতিল এবং বাজেয়াপ্ত ইরানি সম্পদ নিয়ে আলোচনার মতো শর্ত পূরণ করতে হবে।
অন্যদিকে, সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কোনো দ্বিতীয় করিডোর তৈরি করতে দেওয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলে তাদের বাহিনী ও জাহাজ সরাসরি আক্রমণের মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ইরানের পার্লামেন্টে একটি নতুন খসড়া বিল পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যেখানে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজসহ ইরানের ক্ষতি করা যেকোনো দেশের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা এবং অমান্যকারী কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রানজিট ফি হিসেবে ইরানি মুদ্রা নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।