দেশে চলমান ভয়াবহ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠনের পরামর্শ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘ন্যাশনাল ডায়ালগ অন ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বনাইজেশন’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে সংস্থাটি জানায়, সমস্যা সমাধানের জন্য ধীরে চলার সময় আর নেই। দীর্ঘমেয়াদি উত্তরণের জন্য এলএনজির মতো ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এখনই বিকল্প ও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকতে হবে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে জ্বালানি খাতের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ফায়ার ফাইটিংয়ের মতো দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বিপুল গ্যাস পাওয়ায় দেশ গ্যাসনির্ভর অবকাঠামো গড়ে তোলে এবং শিল্পকারখানাও সেভাবে গড়ে ওঠে। কিন্তু গ্যাসের মজুত এখন শেষের দিকে এবং নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে প্রত্যাশিত গতি নেই। এলএনজি সাময়িক সমাধান হতে পারে, কিন্তু এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদি পথ নয়।
ড. মোয়াজ্জেম শিল্পকারখানায় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, গাড়িতে ডিজেলের বদলে ইলেকট্রিক ভেহিকল এবং সেচব্যবস্থায় সৌরশক্তির ব্যবহারের ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, প্রথাগত প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়ায় টেন্ডারের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে জরুরি প্রতিক্রিয়া দল গঠন করা প্রয়োজন, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।
সংলাপে উপস্থাপিত সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে যে, দেশের তৈরি পোশাক খাতে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিশ্চিত করতে প্রায় ১৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন। ৩৫০টি কারখানার ওপর পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ হাজার ২টি যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন জরুরি, যার মধ্যে ৫০ শতাংশ আধুনিকায়নেই ব্যয় হবে ৬ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক খাত দেশের মোট গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশের জন্য দায়ী। ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে কারখানার বিদ্যুৎ খরচ ৪ দশমিক ৪ থেকে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে গবেষণায় জানানো হয়।
বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি ব্যারিস্টার বিদিয়া অমৃত খান বলেন, কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ না নিলে বিশ্ববাজারে পোশাকের চাহিদা কমে যেতে পারে। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরঞ্জামে উচ্চ শুল্ক ও ভ্যাট আরোপের সমালোচনা করেন। বিএসআরইএ সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ জানান, শুল্কমুক্ত সুবিধার কথা থাকলেও বন্দরে সৌর প্যানেলের কনটেইনার আটকে থাকায় উদ্যোক্তারা জরিমানার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান জানান, সবুজ অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকলেও উচ্চ সুদের হার এবং জটিল প্রক্রিয়ার কারণে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে পারছেন না। সিপিডি ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য সহজ শর্তে ঋণের পাশাপাশি এনার্জি অডিট বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দিয়েছে।