অভিনেত্রী ও মডেল রিধিকা রিধির আত্মহত্যার ঘটনায় তার প্রেমিক ব্যবসায়ী হাসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। পুলিশের কাছে হাসিব দাবি করেছেন যে, রিধি অত্যন্ত জেদি ও একরোখা প্রকৃতির ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। তাদের আগামী শুক্রবার বিয়ের কথা ছিল, কিন্তু ঘটনার রাতে ভিডিও কলে ঝগড়ার একপর্যায়ে রিধি আত্মহত্যার হুমকি দেন। হাসিবের দাবি, তিনি রিধিকে সত্যি সত্যি কিছু করতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকে তার বাসায় থাকা বান্ধবীকে ফোন করেছিলেন, কিন্তু বান্ধবী সেই ফোনকে গুরুত্ব দেননি।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, গত ছয় মাস ধরে রিধি ও হাসিবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ঘটনার দিনও তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হয় এবং একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে। বাড্ডা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, রিধির মা জানিয়েছেন যে গত বছর রিধি মাদকাসক্ত থাকায় তাকে রিহ্যাবে রাখা হয়েছিল। ঘটনার সময় রিধির রুমে আরও দুই বান্ধবী ছিলেন, যারা ড্রয়িং রুমে ঘুমে ছিলেন। রিধি তাদের রুম থেকে বের করে দিয়ে ভিডিও কলে কথা বলা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। পুলিশ হাসিবের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনা করছে।
রিধির মায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত হাসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৮ই আগস্ট জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই আব্দুল ওয়াদুদ হাসিবকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন এবং জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে যেতে পারেন।
শনিবার সকালে রিধিকে তার শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রিধি ‘এখানে মানুষ বিক্রি হয়’, ‘বহুরূপী’, ‘ডাবল হানিমুন’ ও ‘সুন্দরী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছিলেন। ঘটনার দিন হাসিব রিধিকে দেখতে তার বাসায় গেলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা হাসিবকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রায় মনোমালিন্য ও ঝগড়াঝঁটি হতো। ঘটনার দিনও তাই হয়েছে। একপর্যায়ে রিধি প্রেমিককে ভিডিও কলে রেখে আত্মহত্যা করেন। প্রেমিকের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চাই