ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের বিষয়টিকে ‘ডি-ডে’ হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সামরিক পরিভাষার এই প্রয়োগের মাধ্যমে ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রস হ্যারিসন। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
হ্যারিসনের মতে, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করায় ইরানি জনগণ বর্তমানে এক ধরনের অর্থনৈতিক ‘ডি-ডে’র মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ভাষাকে অর্থনৈতিক চাপের ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে চাইছেন, কারণ সামরিক পন্থায় ইরানকে নতি স্বীকার করানো সম্ভব হয়নি। তবে এই কৌশলের মাধ্যমে তিনি যে ফলাফল আশা করছেন, তা বাস্তবে অর্জিত হবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে হ্যারিসন মন্তব্য করেন।
বিশেষজ্ঞের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তার উৎস এখনো চীন। তিনি মনে করেন, চীনকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে ওয়াশিংটনের জন্য তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। হ্যারিসন বলেন, চীনেরও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করার মতো বিভিন্ন ধরনের প্রভাব ও সক্ষমতা রয়েছে।
আগামী মাসে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিষয়টি কেবল চীনের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের নয়, বরং ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে হ্যারিসন উল্লেখ করেন।