আইন পেশায় নিয়োজিতদের কেবল অর্থ উপার্জনকে মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ না করে পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) আয়োজিত ‘এনএসইউ ল ফেস্ট সিজন-৩’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, একজন মক্কেল যখন বিপদে পড়ে আইনজীবীর শরণাপন্ন হন, তখন তিনি অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা রাখেন। আইনজীবীর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো সেই আস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। মক্কেলের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
আইনজীবীদের সমাজের ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, আইনজীবী একদিকে মক্কেলের প্রতিনিধি, অন্যদিকে আদালতের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আদালতকে সহায়তা করাই আইনজীবীর মূল কাজ। আদালতে উপস্থাপিত প্রতিটি শব্দ তাৎপর্যপূর্ণ হওয়ায় আইন ও তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি জোর দেন।
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় সফলতার কোনো সহজ পথ বা ‘শর্টকাট’ নেই। দীর্ঘ অধ্যয়ন, অভিজ্ঞতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। পেশাগত জীবনে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে, তবে সততা, ন্যায়সংগত পথ ও মানবিকতার সমন্বয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও জানান, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ও আইন সংস্কারে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। আইনের কোনো অসঙ্গতি বা পরিবর্তনের যৌক্তিক প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে। একই সঙ্গে নবীন আইনজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ল অ্যান্ড মুটিং সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হান্নান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আজিজ আল কায়সার, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম. এ. কাশেম ও বেনজীর আহমেদ, স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মো. রিজওয়ানুল ইসলাম এবং আইন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইশতিয়াক আহমেদ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা।