জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিশ্বনেতাদের সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের গভীর ফাটলগুলো এখন অতল খাদে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের বিদায়ী ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, কেবল সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি ব্যবহার করে বৈশ্বিক সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। এটি পরাশক্তিগুলোর জন্য একটি বড় শিক্ষা হওয়া উচিত যে তাদের ক্ষমতা অসীম নয়।
গুতেরেস উল্লেখ করেন, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থা ধসে পড়েছে। জলবায়ু সংকট এখন আর দূরবর্তী কোনো সতর্কবার্তা নয়, বরং প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবিশ্বাস্য ও অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতি নির্মাতাদেরও দিশেহারা করে তুলেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ স্পষ্ট করেছে যে সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি, অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।
গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে হামাসের আক্রমণের পর গাজায় যা ঘটেছে, মহাসচিব হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনকালে এমন ভয়াবহতা আগে কখনো দেখিনি। তিনি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে গুতেরেস বলেন, ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তিত হলেও শাসনব্যবস্থা তার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছে না। রাষ্ট্রগুলোর হাত থেকে ক্ষমতা এখন গুটিকয়েক বেসরকারি কর্পোরেশন ও ধনকুবের ব্যক্তির হাতে চলে গেছে। রাজনীতি থেকে শুরু করে তথ্যের প্রবাহ পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বিস্তার লাভ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিশ্ব কি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাধ্যমে আরও বিভক্ত হবে, নাকি জাতিসংঘের নেতৃত্বে এক সুষম বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে মোড় নেবে?
তিনি আরও বলেন, তহবিলের সংকট ও নানা সমালোচনা সত্ত্বেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব ও পেশাদার পদে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান। নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে তিনি ‘অন্যায়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘তহবিল সংকট ও নানা সমালোচনার মধ্যেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।’ জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রধান কার্যালয় ও পেশাদার পদে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়