প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বঙ্গভবনে এটিই ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ। প্রথা অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম। বিকাল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তার সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের বিভিন্ন দিক প্রেসিডেন্টকে অবহিত করেন। তিনি জাতিসংঘে সাইডলাইনে বিশ্বনেতা, জাতিসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার বৈঠকের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট তার ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং ভাষণটিকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই ভাষণ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
এদিকে একই দিনে বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় জাপানের সম্রাট নারুহিতোর পাঠানো অভিনন্দন বার্তা হস্তান্তর করেন। সম্রাট তার বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। জবাবে প্রেসিডেন্ট সম্রাটকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার এবং জাপানি জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জনকল্যাণে আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈব প্রযুক্তিসহ সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতা বজায় রাখতে এর পরিমিত ও সচেতন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সাক্ষাতে উপাচার্য প্রেসিডেন্টকে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তনে আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানালে তিনি তা গ্রহণ করেন।