জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে এ বছর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে শসার বাম্পার ফলন হয়েছে। সেই সাথে বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন শসা চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে আগাম শসার আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, এসব জমি থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠজুড়ে শসার চাষ হয়েছে। মাচায় ফুটেছে হলুদ-সাদা ফুল এবং কোথাও থরে থরে শসা ঝুলছে। কৃষকদের কেউ জমিতে সেচ দিচ্ছেন, কেউ পরিচর্যায় ব্যস্ত, আবার কেউ ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরছেন। পরে সেই শসা অটোরিকশায় করে বাজারে পাঠানো হচ্ছে। এবার কৃষকরা গ্রিন বিউটি, জাদু, জিনিয়া ও ময়নামতির মতো উন্নত জাতের শসা আবাদ করেছেন।
বাজারে দামের বিষয়ে কৃষকরা জানান, বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি শসা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এবং খুচরা বাজারে এর দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা। ফুলজোড় এলাকার কৃষক সাইদুর রহমান জানান, বীজ রোপণের ৩০ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই ফল আসা শুরু করে। ফলন ও দাম ভালো থাকায় তিনি বেশ লাভবান হওয়ার আশা করছেন। নাংলা এলাকার কৃষক তৈয়ব আলী জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ করে ভালো ফলন হলে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব। তবে প্রকৃত লাভ নির্ভর করে শ্রমিকের মজুরি, সেচ, সার ও বাজারজাতকরণের খরচের ওপর।
মাদারগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, চাষিরা আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে শসা চাষ করছেন। এখানকার মাটি ও জমি শসা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, যার ফলে প্রতি বছরই আবাদ বাড়ছে। এবার প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন শসা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মাদারগঞ্জের উৎপাদিত শসা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।